খালাতো বোন যখন প্রেমিকা | বাংলা প্রেমের গল্প

হাই, আমি রায়ান। বর্তমানে একটি আইটি কোম্পানিতে ভালো একটি পদে কাজ করি। আমার খালাতো বোন ঝিমলি আর তার ছোট বোন মিলি। ছোটবেলা থেকেই ঝিমলিকে আমার খুব ভালো লাগত। কিন্তু ঝিমলি আমাকে কখনো বিশেষভাবে পাত্তা দিত না। অন্যদিকে মিলি আমাকে পছন্দ করত এবং প্রায়ই ফোন দিত, তাদের বাড়িতে যেতে বলত। তবে আমি মিলির দিকে তেমন মনোযোগ দিতাম না, কারণ আমার মনে সবসময় ঝিমলিই ছিল।

খালাতো বোন যখন প্রেমিকা | বাংলা প্রেমের গল্প

সময় এভাবেই কেটে গেল প্রায় ৭–৮ বছর।

একদিন হঠাৎ মিলি আমাকে ফোন দিলো—

আমি: হ্যালো, কে বলছেন?

মিলি: কেমন আছেন?

আমি (মজা করে): ভালো আছি, কিন্তু আপনি কে?

মিলি: আমি মিলি।

আমি: মিলি আবার কে? আমি তো এই নামে কাউকে চিনি না, আপনি হয়তো ভুল নাম্বারে ফোন দিয়েছেন।

মিলি: ভাইয়া, আজ মা আপনাকে আমাদের বাড়িতে আসতে বলেছে।

আমি (মনে মনে খুব খুশি হলাম। ঝিমলিকে অনেকদিন দেখা হয়নি। ভাবলাম এটা ভালো সুযোগ।): আচ্ছা… আমি একটু মজা করছিলাম। কবে আসবো?

মিলি: তাহলে কাল সকালে আসবেন।

আমি: ঠিক আছে, আসবো।

মিলি: সত্যি আসবেন তো? আমার খুব ভালো লাগছে।

আমি: হ্যাঁ, অবশ্যই আসবো।

মিলি: আচ্ছা, তাহলে ভালো থাকবেন।

ফোন রেখে আমি ভীষণ খুশি হয়ে গেলাম। অনেকদিন পর খালার বাড়ি যাবো, ঝিমলিকে দেখবো—এই ভাবনাতেই মনটা ভালো হয়ে গেল।

পরদিন সকালে আমি রেডি হয়ে খালার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।

আমাকে দেখে সবাই খুব খুশি হলো। মিলি তো একেবারে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ল—খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুই সে নিজে করছে।

আমি বললাম: “কিরে, আজ কি আমাকে খাইয়ে মারবি নাকি?”

সবাই হাসল।

আমি বারবার খুঁজছিলাম ঝিমলিকে।

খালা বলল: “ঝিমলি কলেজে গেছে, একটু পরেই আসবে।”

আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম।

কিছুক্ষণ পর ঝিমলি এলো।

আমাকে দেখে একটু লজ্জা পেল সে।

আমি বললাম: কিরে, কেমন আছিস?

ঝিমলি: ভালো আছি ভাইয়া। তুমি কখন আসলে?

আমি: এই তো একটু আগে। অনেকদিন পর তোকে দেখে সত্যি ভালো লাগছে। আগের চেয়ে আরও সুন্দর হয়ে গেছিস।

ঝিমলি লজ্জা পেয়ে বলল: কি যে বলো না ভাইয়া…

আমি: বিকেলে একটু বের হবি? কোথাও ঘুরে আসি?

ঝিমলি: না ভাইয়া, আমার ভালো লাগবে না। তুমি বরং মিলিকে নিয়ে যাও।

আমি একটু হেসে বললাম: আচ্ছা, তাহলে কেউই যাব না।

সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল।

আমি বুঝতে পারছিলাম, ঝিমলির সাথে একা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি না। তাই রাতে যখন সবাই ব্যস্ত, আমি বাইরে চলে গেলাম।

ঝিমলি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল।

আমি ধীরে গিয়ে বললাম: ঝিমলি, তোর সাথে একটু কথা আছে।

ঝিমলি: বলো ভাইয়া।

আমি: একটু ওদিকে আসবি?

ঝিমলি: আচ্ছা…

আমরা একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালাম।

আমি অনেকক্ষণ চুপ করে রইলাম। তারপর ধীরে বললাম—

আমি: আমি তোকে অনেকদিন ধরেই পছন্দ করি, ঝিমলি… মানে ভালোবাসি।

ঝিমলি চমকে উঠল।

ঝিমলি: ভাইয়া, তুমি কী বলছো? এসব ঠিক না… তুমি তো আমার ভাইয়ের মতো। পরিবার কী বলবে?

আমি: আমি জানি এটা সহজ না। কিন্তু আমার অনুভূতি সত্যি। আমি তোকে ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসি।

ঝিমলি: এসব কখনো সম্ভব না। কেউ মেনে নেবে না।

আমি: আমি কাউকে জোর করবো না। শুধু চাই, তুই একটু সময় নে। ভেবে দেখ।

ঝিমলি চুপ করে রইল।

ঝিমলি: ঠিক আছে… আমি ভাববো।

সেদিন রাতে আমার ঘুম হলো না। শুধু একটাই চিন্তা—ঝিমলি কী বলবে?

ঝিমলিও খুব অস্থির ছিল। সেও বুঝতে পারছিল নিজের অনুভূতি কিন্তু পরিবারের ভয় তাকে থামিয়ে রাখছিল।

এরপর দিনগুলো অদ্ভুতভাবে কাটতে লাগল। আমাদের মধ্যে দূরত্ব ছিল, আবার নীরব টানও ছিল।

আমি ভেবে নিলাম, হয়তো এবার চলে যাওয়ার আগে কোনো উত্তর পাবো না।

পরদিন রাতে আমি বিছানায় শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ খাটের উপর একটা কাগজ পেলাম।

খুলে দেখি—ঝিমলি আমাকে রাত ১২টায় তার রুমে যেতে বলেছে।

আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

ঠিক রাত ১২টায় আমি তার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। দরজা খোলা ছিল।

ভিতরে ঢুকতেই ঝিমলি দরজা বন্ধ করে দিল।

ঝিমলি নিচু গলায় বলল আমি অনেক ভেবে দেখেছি। আমি রাজি।

ঝিমলির কথা শেষ হতেই আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। মনে হচ্ছিল বুকের ভেতরের সব চাপ হঠাৎ হালকা হয়ে গেল।

আমি ধীরে বললাম: “মানে… তুমি সত্যিই রাজি?”

ঝিমলি মাথা নিচু করে বলল: “হ্যাঁ… তবে আমার কিছু শর্ত রয়েছে। আমার পরিবারকে রাজি করানোর দায়িত্ব সম্পূর্ন তোমার নিতে হবে। আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে বিয়ে করতে হবে।

আমি একটু এগিয়ে গিয়ে বললাম কোন সমস্যা নেই তুমি ভয় পেও না। আমি সব দেখে নিবো।

ঝিমলি এবার চোখ তুলে আমার দিকে তাকাল। তার চোখে যেন একটা আদ্ভত শান্তি দেখতে পেলাম। আমি এবার আস্তে করে ঝিমলির হাতটা ধরলাম। প্রথমে ঝিমলি একটু চমকে গেলেও ধীরে ধীরে সে আমার কাছে চলে আসলো। আমি এবার ঝিমলিকে বুকে ঝড়িয়ে ধরলাম। ঝিমলিও আমাকে যাপতে ধরলো। আমরা এবার মিলিয়ে গেলাম এক অন্য দুনিয়ায়। আকে আপরকে লিপকিস করতে লাগলাম।

সেই মুহূর্তে শব্দ ছিল না, শুধু ছিল দুইজন মানুষের ভরসা আর একটা নতুন সম্পর্কের শুরু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top