ঝগড়া থেকেই প্রেম | রোমান্টিক গল্প

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে দিয়েই যাচ্ছিলাম। কিন্ত হঠ্যাৎ একটা মেয়েকে দেখে মনে হলো পৃথিবীর সমস্ত অন্যয় সেই মেয়েটাই করে ফেলছে। অবশ্য অন্যয়টা সে ইচ্ছা করে করেনি। হঠ্যৎই ভুল করে হয়ে গেছে।

ঝগড়া থেকেই প্রেম | রোমান্টিক গল্প

আমি: এই যে মিস,, আপনি কি আমার শার্টটা দেখেছেন? আমার গলা শুনতেই মেয়েটা ফিরে তাকাল। আর বলল
মেয়ে: আজব তো আপনার শার্ট দেখে আমি কি করবো।
আমি: কি করবো মানে? আমার নতুন শার্টটা আপনি এক নিমিশেই নষ্ট করে দিলেন।

মেয়েটা তখন আমার শার্টে যেখানে আইসক্রিম লেগেছে সেই জায়গাটায় তাকাতেই তার চোখটা মলিন হয়ে গেল। আমার সাদা শার্টের একদম মাঝখানে গোলাপি রঙের আইসক্রিমের বিশাল দাগ। মেয়েটা কিছুখন চুপ করে রইল। তারপর বলল

মেয়ে: জি
আমি: জি মানে
মেয়ে: হা শার্টটা সুন্দর আছে।

আমি পুরাই হতমম্ব হয়ে গেলাম মেয়েটার কথা শুনে।

আমি: সেটা তো আমিও জানি।

মেয়েটা এবার ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকানোর চেষ্টা করল।

আমি: আপনি হাসছেন?

—না তো!

আমি: আপনার মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে খুব আনন্দ পাচ্ছেন।

—আসলে… আপনার শার্টটা বেশ সুন্দর ছিল।

আমি: ছিল?

—এখনও সুন্দর। শুধু একটু… স্ট্রবেরি ফ্লেভার হয়ে গেছে।

আমি তখন চোখ বন্ধ করে গভীর একটা শ্বাস নিলাম। আজ বিশ্ববিদ্যলয়ে আমার প্রথম ক্লাস। আর প্রথম ক্লাসের আগেই একটা অচেনা মেয়ে আমার সাদা শার্টে আইসক্রিম ঢেলে দিয়েছে। তার উপর ওই মেয়েটার শরীরে বৃন্দ মাএ আপরাধ বোধও নেই।

মেয়েটার নাম মেহরিন।

আর আমি? আরিয়ান।

আমাদের পরিচয় অবশ্য তখনও হয়নি।

ঘটনার শুরু হয়েছিল মাত্র পাঁচ মিনিট আগে।

মেহরিন তার বান্ধবী নীলার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকছিল। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন জীবন—সবকিছু নিয়েই মেয়েটার উত্তেজনার শেষ নেই।

হাতে থাকা আইসক্রিমটা খেতে খেতে হাঁটছিল সে।

হঠাৎ নীলা পেছন থেকে বলল,

—মেহরিন, তোর ব্যাগটা খুলে গেছে!

—কোথায়?

মেহরিন পেছনে তাকাতেই পাশে থাকা মানুষটার সঙ্গে ধাক্কা।

হাত থেকে আইসক্রিম ছিটকে সোজা গিয়ে পড়ল আমার শার্টে।

আর সেই আমিই এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।

—আপনার নাম কী?

হঠাৎ আমি প্রশ্ন করলাম।

মেহরিন ভ্রু কুঁচকে বলল,

—কেন?

—ক্ষতিপূরণের কাগজে নাম লাগবে।

—কীসের ক্ষতিপূরণ?

—আমার শার্টের।

—একটা আইসক্রিমের জন্য?

—এটা একটা শার্ট। আপনার কাছে হয়তো আইসক্রিমের মতোই তুচ্ছ।

—ওহ, সরি। আমি জানতাম না শার্টটার এত আবেগ আছে।

আরিয়ান এবার সত্যিই রেগে গেল।

—আপনি সবসময় এমন কেন?

—কেমন?

—বিপদ ঘটিয়ে উল্টো মানুষকে দোষারোপ করেন?

মেহরিন ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

—আপনিও কি সবসময় এত রাগী?

—আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে আমার তাই মনে হচ্ছে।

পাশ থেকে নীলা ফিসফিস করে বলল,

—চল, প্রথম দিনেই ঝামেলা করে ফেলবি।

মেহরিন আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

—আচ্ছা, সরি। এখন যেতে পারি?

আরিয়ান রাস্তা ছেড়ে দিল।

—যান।

মেহরিন দুই পা এগিয়ে আবার ফিরে তাকাল।

—আপনার শার্টটা সত্যিই সুন্দর ছিল।

—ধন্যবাদ।

—এখন আর নেই।

বলেই দৌড়ে চলে গেল সে।

আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে থেকে মাথায় হাত দিল।

—মেয়েটা পাগল!

পাশ থেকে তার বন্ধু রাফি হেসে বলল,

—ভাই, প্রথম দিনেই প্রেম?

—চুপ কর।

—তাহলে এতক্ষণ মেয়েটার পেছনে তাকিয়ে আছিস কেন?

আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকে তাকাল।

—আমি দেখছি, আমার শার্টটা বাঁচানোর কোনো সম্ভাবনা আছে কি না।

রাফি হেসে বলল,

—শার্ট বাঁচবে কি না জানি না, কিন্তু তোর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তুই আর বাঁচবি না।

ক্লাসে ঢুকে মেহরিন যখন নিজের জায়গায় বসছিল, তখনও সে ঘটনাটা মনে করে হাসছিল।

নীলা বিরক্ত হয়ে বলল,

—তুই আসলেই একটা বিপদ।

—ওই আমি কী করেছি?

—ছেলেটার শার্ট নষ্ট করেছিস।

—ইচ্ছে করে করছি নাকি?

—তারপরও ছেলেটাকে উলটো খেপাচ্ছিস।

—ও নিজেই তো আমাকে খেপাচ্ছিল।

ঠিক তখনই ক্লাসে একজন শিক্ষক ঢুকলেন।

সবাই চুপ হয়ে গেল।

শিক্ষক উপস্থিতি নেওয়া শুরু করলেন।

একসময় বললেন,

—আরিয়ান রহমান?

পেছন থেকে গম্ভীর একটা কণ্ঠ ভেসে এল,

—জি, স্যার।

মেহরিনের হাসি থেমে গেল।

সে ধীরে ধীরে পেছনে তাকাল।

সাদা শার্টের জায়গায় এখন কালো টি-শার্ট পরা একটা ছেলে বসে আছে।

চোখাচোখি হতেই ছেলেটা মুচকি হাসল।

মেহরিনের মুখ শুকিয়ে গেল।

নীলা ফিসফিস করে বলল,

—এই তো! আইসক্রিম ভাই!

মেহরিন দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

—চুপ!

কিন্তু আরিয়ান স্পষ্টই তাদের কথা শুনে ফেলেছে।

সে নিচু গলায় বলল,

—আইসক্রিম আপু।

মেহরিন চোখ বড় বড় করে তাকাল।

—আপনি!

—জি, আমি।

সেদিনের প্রথম ক্লাস থেকে তাদের ঝগড়ার শুরু।

একজন সামনে থেকে কথা বলে, অন্যজন পেছন থেকে জবাব দেয়।

শিক্ষক কয়েকবার সতর্ক করেও যখন দুজনকে থামাতে পারলেন না, শেষ পর্যন্ত বললেন,

—আরিয়ান, মেহরিন। তোমরা দুজন কাল থেকে একসঙ্গে বসবে।

দুজন একসঙ্গে বলে উঠল,

—কী?!

পুরো ক্লাস হেসে উঠল।

পরের কয়েক সপ্তাহে তাদের সম্পর্কটা আরও অদ্ভুত হয়ে উঠল।

ঝগড়া আছে।

খুনসুটি আছে।

একজন অন্যজনকে বিরক্ত করার সুযোগ পেলেই কাজে লাগায়।

কিন্তু অদ্ভুতভাবে, একজন বিপদে পড়লে অন্যজন সবার আগে পাশে দাঁড়ায়।

একদিন মেহরিন ক্লাসে আসেনি।

আরিয়ান কয়েকবার দরজার দিকে তাকিয়ে শেষ পর্যন্ত নীলাকে জিজ্ঞেস করল,

—মেহরিন আসেনি কেন?

—জ্বর।

—কী হয়েছে?

—তুই এত চিন্তা করছিস কেন?

আমি সঙ্গে সঙ্গে মুখ শক্ত করে বললাম,

—চিন্তা করছি না। ক্লাসের নোট কে দেবে সেটা ভাবছি।

নীলা মুচকি হেসে বলল,

—হুম। বুঝেছি।

সেদিন বিকেলে মেহরিন ফোন হাতে নিয়ে দেখল, তার মেসেঞ্জারে একটা মেসেজ।

“আজকের ক্লাসের নোটগুলো পাঠিয়ে দিলাম। কাল ক্লাসে না এলে নিজে পড়ে নিও।”

নিচে আরেকটা মেসেজ—

“আর বেশি অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখাবে।”

মেহরিন মেসেজটা কয়েকবার পড়ল।

তারপর অজান্তেই হাসল।

প্রথমবারের মতো ছেলেটাকে তার একেবারে খারাপ লাগল না।

কিন্তু ভালো লাগার শুরুটা যতটা সুন্দর ছিল, শেষটা ততটা সুন্দর হলো না।

একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল।

মেহরিন জানতে পারল, আরিয়ান নাকি অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে ঘুরছে।

মেয়েটার নাম তিশা।

তিশা তাদের বিভাগেরই ছাত্রী।

দূর থেকে মেহরিন দেখল, তিশা আরিয়ানকে কিছু একটা বলছে আর দুজনেই হাসছে।

মেহরিনের বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ব্যথা হলো।

সে নিজেই বুঝতে পারল না কেন।

কিন্তু সেদিন থেকে সে আর আরিয়ানের সঙ্গে কথা বলল না।

আরিয়ানও বুঝতে পারছিল না হঠাৎ কী হয়েছে।

একদিন করিডোরে মেহরিনকে একা পেয়ে সে পথ আটকে দাঁড়াল।

—আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছ কেন?

—এড়িয়ে যাচ্ছি না।

—তাহলে কথা বলছ না কেন?

—সব মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয় না।

আরিয়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, তাই বলে আমার সঙ্গে

—হ্যা বিশেষ করে আপনার সঙ্গে।

—আমি কী করেছি?

মেহরিন কিছুই বলল না।

আরিয়ান এবার একটু নরম গলায় বলল,

—মেহরিন, কিছু কি হয়েছে?

মেয়েটা চোখ তুলে তাকাল।

—কই কিছুই তো হয়নি।

—তাহলে?

—আপনি তিশার সঙ্গে থাকেন। তার সঙ্গেই থাকুন।

কথাটা বলেই মেহরিন চলে গেল।

আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর হঠাৎ হেসে ফেলল।

—আহা! ব্যাপার তাহলে এখানে!

কিন্তু মেহরিন তখন অনেক দূরে চলে গেছে।

সে জানত না, আরিয়ান প্রথমবারের মতো নিজের মনের কথাটা বুঝতে পেরেছে।

মেহরিনকে সে শুধু বিরক্ত করতে চায় না।

সে মেয়েটাকে হারাতেও চায় না।

পরদিন সকাল থেকেই মেহরিন আরিয়ানের মুখোমুখি হতে চাইছিল না।

কিন্তু ভাগ্য যেন ইচ্ছে করেই দুজনকে বারবার মুখোমুখি করে দিচ্ছিল।

ক্লাসে ঢুকতেই শিক্ষক ঘোষণা করলেন,

—আগামী সপ্তাহে আমাদের একটা প্রেজেন্টেশন হবে। প্রত্যেক গ্রুপে দুইজন করে থাকবে। আমি নাম ঠিক করে দিচ্ছি।

মেহরিনের বুক ধরফর করে উঠল।

কয়েকজনের নাম বলার পর শিক্ষক বললেন,

—মেহরিন আর আরিয়ান।

পুরো ক্লাস থেকে হাসির শব্দ উঠল।

মেহরিন মাথা নিচু করে ফেলল।

আরিয়ান পাশে বসে ফিসফিস করে বলল,

—ভাগ্যকে সব সময় এড়িয়ে চলা যায় না, আইসক্রিম আপু।

—আমাকে বিরক্ত করবেন না।

—আমি তো কাজের কথা বলছি।

—আপনার কাজের কথাও বিরক্তিকর।

—তাহলে প্রেজেন্টেশন কে করবে?

—আপনি।

—আর আপনি?

—আমি অসুস্থ হয়ে যাব।

আরিয়ান হেসে বলল,

—আপনার অভিনয় ভালো না।

প্রজেক্টের কাজ করতে গিয়ে দুজনকে প্রায় প্রতিদিন দেখা করতে হলো।

প্রথম দিকে মেহরিন দূরত্ব বজায় রাখলেও ধীরে ধীরে তার অভিমান কমতে লাগল।

একদিন সন্ধ্যায় প্রজেক্ট শেষ করে বের হওয়ার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টি নামল।

মেহরিন ছাতি আনেনি।

আরিয়ান নিজের ছাতাটা এগিয়ে দিল।

—নিন।

—আপনি?

—আমি ভিজব।

—আপনি ভিজবেন কেন?

—কারণ আমার ছাতি একটা। আর আপনি একজন।

মেহরিন কিছু না বলে ছাতাটা নিল।

দুজন পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল।

বৃষ্টির শব্দের মাঝে অনেকক্ষণ কেউ কথা বলল না।

হঠাৎ মেহরিন বলল,

—তিশা কে?

আরিয়ান হাঁটা থামিয়ে তার দিকে তাকাল।

—এতদিন পরে এই প্রশ্ন?

—জানতে ইচ্ছে হলো।

—আমার কাজিন।

মেহরিন থমকে গেল।

—কাজিন?

—হ্যাঁ।

—আপনি আগে বলেননি কেন?

—আপনি জিজ্ঞেস করেননি।

মেহরিন অপ্রস্তুত হয়ে গেল।

আরিয়ান মুচকি হেসে বলল,

—তাহলে আপনি আমার ওপর রাগ করেছিলেন তিশার জন্য?

—না।

—নিশ্চিত?

—একদম।

—তাহলে আপনার মুখটা তখন টমেটোর মতো লাল হয়েছিল কেন?

—বৃষ্টিতে ঠান্ডা লাগছিল।

আরিয়ান হেসে ফেলল।

—আপনি মিথ্যা বলতে পারেন না।

মেহরিন এবার ছাতাটা তার হাতে দিয়ে বলল,

—আপনিই ধরুন।

—কেন?

—আমার হাত ব্যথা করছে।

আরিয়ান ছাতা নিল।

তারপর দুজন পাশাপাশি হাঁটতে লাগল।

তাদের মাঝে আর কোনো ঝগড়া ছিল না।

শুধু নীরবতা।

আর সেই নীরবতাটাই যেন অনেক কথা বলে দিচ্ছিল।

প্রেজেন্টেশনের দিন মেহরিন অনেক নার্ভাস ছিল।

মঞ্চে ওঠার আগে তার হাত কাঁপছিল।

আরিয়ান পাশে দাঁড়িয়ে বলল,

—ভয় পাচ্ছেন নাকি?

—হ্যাঁ।

—আমি আছি তো ভয় কিসের?

মাত্র দুটি শব্দ।

কিন্তু মেহরিনের বুকের ভেতরটা কেমন যেন শান্ত হয়ে গেল। সে আরিয়ানের কথায় অনেক সাহস পেল।

প্রেজেন্টেশন শেষ হলো দারুণভাবে।

সবাই প্রশংসা করল।

বের হওয়ার সময় আরিয়ান মেহরিনকে বলল,

—একটা কথা বলব?

—বলুন।

—সেদিন আপনার আইসক্রিমে আমার শার্ট নষ্ট হয়েছিল।

—জানি।

—তারপর আপনি আমার সঙ্গে ঝগড়া করেছিলেন।

—আপনিও কম করেননি।

—তারপর আপনি আমাকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

মেহরিন চুপ।

—আর তারপর?

আরিয়ান একটু থেমে বলল,

—তারপর আমি বুঝলাম, আপনাকে বিরক্ত না করলে আমার দিনটাই কেমন জানি অসম্পূর্ন লাগে।

মেহরিনের মুখে হাসি ফুটে উঠল। মেহেরিন বলল

—আপনি কি আমাকে পছন্দ করেন?

আরিয়ান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।

—পছন্দের থেকেও বেশি।

মেহরিন চোখ নামিয়ে ফেলল।

—কতটা বেশি?

—যতটা হলে একটা মানুষ প্রতিদিন একই মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া করেও তাকে ছাড়া থাকতে পারে না।

মেহরিন হেসে ফেলল।

—আপনি খুব নাটক করেন।

—আপনি না থাকলে কার সঙ্গে করব?

তাদের সম্পর্ক শুরু হলো কোনো ফুল, কোনো দামি উপহার বা সিনেমার মতো প্রপোজাল দিয়ে নয়।

শুরু হলো একটা আইসক্রিমের দাগ দিয়ে।

কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ হয়নি।

দুই বছর পর—

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শেষ দিন।

পুরো ক্যাম্পাসে বিদায়ের আবহ।

মেহরিন একা দাঁড়িয়ে ছিল সেই জায়গাটায়, যেখানে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল।

হঠাৎ পেছন থেকে আরিয়ানের গলা—

—এই যে আইসক্রিম আপু!

মেহরিন ঘুরে তাকাল।

আরিয়ান হাতে একটা আইসক্রিম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

মেহরিন হাসল।

—এখনও এই নামে ডাকেন?

—নামটা আমার খুব পছন্দ।

—কেন?

আরিয়ান আইসক্রিমটা তার হাতে দিয়ে বলল,

—কারণ এই নামটার সঙ্গে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ভুলটা জড়িয়ে আছে।

—কী ভুল?

—প্রথম দিন আপনাকে চিনতে না পারা।

মেহরিন মুচকি হেসে বলল,

—আর এখন?

আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে বলল,

—এখন বুঝি, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মানুষটাকে কখনো কখনো ভুল মানুষ ভেবেই জীবনে ঢুকতে দিতে হয়।

মেহরিন কিছু বলল না।

শুধু আইসক্রিমটা আরিয়ানের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলল,

—খাওয়ান।

—নিজে খেতে পারেন না?

—না।

—কেন?

—কারণ প্রথম দিন আপনার শার্ট নষ্ট করেছি। আজ আপনার হাত থেকে আইসক্রিম খেয়ে সেই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করব।

আরিয়ান হেসে মাথা নাড়ল।

—আপনি কোনোদিন বদলাবেন না তো।

—আপনিও না।

দুজন পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে রইল।

তাদের ছাত্রজীবন শেষ হলো।

কিন্তু তাদের গল্প?

সেটা সেদিন থেকেই নতুন করে শুরু ভাবে শুরু হলো।

সমাপ্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top