বৌদিকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে, তারপর… বাংলা প্রেমের গল্প

আমার নাম রাতুল। আমি অনার্স প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র। আমাদের পরিবারটি ছিল বেশ বড়। আমি ছিলাম বাড়ির সবচেয়ে ছোট ছেলে, তাই সবাই আমাকে অনেক আদর করত। বড় ভাই, দাদা, বৌদি—সবার কাছেই আমি ছিলাম খুবই প্রিয়। এমনকি বৌদিরা যখন যেখানে যেতে চাইত, আমিই ছিলাম তাদের একমাত্র সঙ্গী। কিন্তু জীবন যে কখন কোন মোড় নেয়, কেউ বলতে পারে না।

বৌদিকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে, তারপর… বাংলা প্রেমের গল্প

এর মাঝেই একদিন আমার পাশের বাড়ির এক কাকাতো ভাইয়ের বিয়ের কথা চলছিল। আমরা কয়েকজন মেয়ে দেখতে গেলাম। মেয়ে আমাদের সবার পছন্দ হলো। কিন্তু এখানে মেয়ের মতামত নেওয়া হলো না, সে বিয়েতে রাজি কিনা। এই দিকে মেয়ের পরিবারও ছেলেকে দেখে পছন্দ করল। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে দ্রুত তাদের বিয়ে ঠিক হলো। কিন্তু মেয়ের ছিল অন্য একটা ছেলের সাথে রিলেশন। বিয়ে ঠিক হওয়ার পরদিনই মেয়ে আমার কাকাতো ভাইকে ফোন করে জানায় যে সে এই বিয়ে করতে পারবে না। কারণ সে অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসে। কিন্তু দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত বিয়েটি হয়েই যায়।

বিয়ের প্রথম দিকে কাকাতো ভাইয়ের সংসার মোটামুটি ভালোই চলছিল। কিন্তু সমস্যা হলো, কাকাতো ভাই তার চাকরির কারণে বেশির ভাগ সময় কলকাতায় থাকত। তাই আমাকে বলে যায়, “রাতুল, আমি তো বাড়ি থাকি না। আর শুনছি তোর বৌদির বিয়ের আগে অন্য একটা ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল। তুই একটু তোর বৌদিকে দেখিস।” এরপর কাকাতো ভাই চলে যাওয়ার পর সত্যিই বৌদি একদম একা হয়ে গেলেন। পরে আমিই তার খোঁজখবর নিতাম, মাঝে মাঝে অনেক রাত অবধি তার সাথে আড্ডা দিতাম। এমনকি মাঝে মাঝে বাজার-সদাই করে দিতাম। আশেপাশে মেলা হলে সেখানেও ঘুরতে নিয়ে যেতাম। এভাবেই ধীরে ধীরে আমাদের মাঝে একটা ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।

এরপর থেকে আমরা প্রতি রাতেই এসএমএসে কথা বলতাম। এর মাঝেই একদিন কাকিমা, মানে বৌদির শাশুড়ি, তার মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলেন। সেই সুযোগে বৌদিও আমাকে ঘরে ডেকে নিলেন। সেদিন আমাদের মাঝে এই প্রথম শারীরিক সম্পর্ক হলো। কিন্তু এই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হলো না। পরের দিন যখন বৌদি আবার আমাকে রাতে তার কাছে যেতে বললেন, সেদিনই আমি ঘরে ঢোকার সময় পাশের বাড়ির এক দাদা দেখে ফেলে। তারপর সে দরজা বন্ধ করে দেয়। আর বাড়ির সবাইকে ডাক দেয়। এরপর আমাদের দুজনকে ধরা হয়।

এর ফলে বাড়িতে একদম তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। আমাকে আমার মা-বাবা অনেক মারধর করেন। আর বৌদিকেও গালিগালাজ করে সবাই। এসব যখন আমার সেই কাকাতো ভাই জানতে পারে, সে বাড়ি ফিরে আসে আর বৌদিকে খুব মারে। এই দিকে বৌদির মা-বাবা এসেও তাকে মারধর করেন।

আমি এই ঝামেলা থেকে বাঁচতে ঢাকায় চলে যাই। কিন্তু বৌদি তারপরও আমাকে ফোন দিতে থাকে। নিয়মিত ফোন দিতে থাকে। আর প্রতিদিন একটা কথাই বলে, “রাতুল, চলো না আমরা পালিয়ে যাই। অনেক দূরে কোথাও চলে যাই। যেখানে শুধু তুমি আর আমি।” আমি একটা সময়ে বৌদির কথায় রাজি হয়ে যাই।

আমি আগে থেকেই একটা বাসা ঠিক করে রাখি। আর বৌদিকে ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে বলি। আমি আমাদের এলাকার বাজারে যেতেই বৌদিও চলে আসে। আমরা দুজনে আমাদের সেই ঠিক করে রাখা বাসায় চলে যাই। কিন্তু বাড়ির সবাই তন্নতন্ন করে আমাদের খুঁজতে থাকে। কিন্তু আমাদের কাউকেই খুঁজে পায় না। আর এই দিকে আমিও মোবাইল অফ করে রেখেছিলাম।

এরপর কয়েক মাস পরে আমি ভাবি, সব কিছু হয়তো এখন ঠিক হয়ে গেছে। তাই আমার ফোনটা অন করি। সকালে অন করি আর বিকেলেই ফোন আসে। “রাতুল বাবা, তুই বাড়িতে আয়। আমরা তোদের ভালোবাসা মেনে নিয়েছি।” কিন্তু শুধু আমাকে একাই আসতে বলে। আমিও মায়ের কথা বিশ্বাস করি। কিন্তু এটা যে একটা ফাঁদ ছিল, আমি জানতাম না। বাড়িতে আসার সাথে সাথেই আমাকে আটকে ফেলা হয়। পরে আমাকে অনেক মারধর করাতে আমিও তাদের ঠিকানা দিয়ে দিই। বৌদিকে বাড়িতে আনার পর বাড়িতে সালিশ বসানো হয়। এই সালিশে আমরা দুজনেই আমাদের ভালোবাসার কথা ভরা সমাজের কাছে বলি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনে না।

বৌদিকে জোর করে তারা আমার কাছ থেকে নিয়ে যায়। আর বৌদিও তখন পাগলের মতো কান্নাকাটি করতে থাকে। আমিও নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। বৌদির সাথে সাথে আমিও কান্না করতে থাকি। কিন্তু বৌদি যেতে চায় না। তখন জোর করে বৌদিকে নিয়ে যায় তারা। আর তাকে বাড়িতে নিয়ে শিকল দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখে। এই দিকে আমার অবস্থাও প্রায় একই রকম। এভাবে দুই মাস যাওয়ার পর সব কিছুই স্বাভাবিক হয়ে যায়। আমিও কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে যাই। আর বৌদিও। কিন্তু কেউ কাউকে ভুলতে পারি না।

এর মাঝেই হঠাৎ বৌদি একটা অচেনা নম্বর থেকে আমার নম্বরে কল দেয়। আর বলে, “তুমি আমাদের পাশের গ্রামের বাজারে আমার জন্য অপেক্ষা করো, আমি আসতেছি।” এটা শুনতেই আমি আর ঠিক থাকতে পারি না। আমিও এবার পুরো প্রস্তুতি নিয়ে চলে যাই পাশের গ্রামে। দেখি বৌদি আমার আগেই একটা ব্যাগ নিয়ে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরপর আমি তাকে নিয়ে আসামে চলে আসি। যেখানে আমাদের আর কেউ কোনো দিন খুঁজে পাবে না।

এসেই আমি আমার সিম কার্ড খুলে ফেলি। এরপর আর কেউ কোনো দিন আমাদের খোঁজ নেয়নি। আমরা এখন খুব সুখে-শান্তিতেই সংসার করছি। এখন আমাদের ঘরে একটা ফুটফুটে সুন্দর মেয়েও আছে। অনেক কষ্টে, অপমানে, চোখের জলের বিনিময়ে আমাদের ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। এটাই আমাদের প্রেমের কাহিনি।

একটি বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় রচিত)
লেখক: অচেনা মেয়ে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top