আমি রাতুল, বয়স ২৭। বর্তমানে চেন্নাইয়ের একজন সফল ব্যবসায়ী। কিন্তু তার পাশাপাশিও আমার একটা পরিচয় আছে আর তা হলো আমি একজন ট্রাভেলার। আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের আরো ১৯ জন সদস্য নিয়ে একটা টুরিস্ট গিল্ড রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ৩০টারও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছি। কিন্তু এবারের ভ্রমণ গন্তব্যটা ছিল একদম ভিন্ন—আমাজনের গহীন জঙ্গল।
আমাজনের গহীন জঙ্গলের জামাই | এক অসাধারণ প্রেমের গল্প
যথারীতি আমরা সবাই প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সাথে কিছু খাবার আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও নিলাম। আমরা সবাই খুবই এক্সাইটেড ছিলাম। কারণ এই প্রথম জঙ্গলে ঘুরতে যাচ্ছি। কিন্তু জঙ্গলের নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে কোনো রুলস থাকে না। আমাদের প্রথম কয়েকটা দিন ভালোই কাটছিল। এক ভিন্নধর্মী বাংলা প্রেমের গল্প
কিন্তু এর মধ্যেই একদিন আমরা জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে একটু ভিতরে চলে গেলাম। আর তখনই একটা ভালুক আমাদের সবাইকে তাড়া করলো। তখন যে যার মতো দৌড়াতে লাগল। আমিও দৌড়াতে লাগলাম। কিন্তু ভালুকটা যেন সবাইকে ছেড়ে আমার পিছু নিল। আর আমি নিজেকে বাঁচানোর জন্য দৌড়াতে দৌড়াতে দল থেকে আলাদা হয়ে গেলাম। অনেক কষ্টে ভালুকটার হাত থেকে রক্ষা পেলেও আমি হারিয়ে গেলাম গভীর জঙ্গলে। তার সাথে আমার ম্যাপ আর কম্পাসও হারিয়ে গেল।
এরপর আমি জঙ্গল থেকে বের হওয়ার জন্য হাঁটতে লাগলাম, কিন্তু আমি জানতাম না আমি আরো গহীন জঙ্গলে প্রবেশ করছি। ক্ষুধা, ক্লান্তি আর ভয়ে আমার শরীর চলছিল না। যদিও আমার সাথে একটা ব্যাগ ছিল, কিন্তু সেখানে কোনো খাবার ছিল না। শুধু কয়েকটা কোল্ড ড্রিংকস আর কিছু জিনিস ছিল। আর আমার বেস ক্যাম্পে ছিল খাবার।
এভাবে হাঁটতে হাঁটতে আমি আদিবাসীদের একটা এলাকার খুব কাছে ঢুকে গেলাম। এর মাঝেই কিছু আদিবাসী পুরুষ আমাকে দেখতে পেল। আর তারা তীর-ধনুক নিয়ে আমাকে ঘিরে ধরলো। প্রথমে তারা সতর্ক ছিল, ভাবছিল হয়তো আমি কোনো শিকারী। আর তাদের দেখে আমিও অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার অবস্থা দেখে বুঝতে পারলো আমি অনেক বিপদে পড়েছি। তাই আমাকে তারা উদ্ধার করে তাদের গ্রামে নিয়ে গেল।
যদিও আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। কারণ টিভিতে অনেকবার দেখেছি আদিবাসীরা ভয়ংকর হয়। কিন্তু তাদের ব্যবহার এতটাই ভালো ছিল। যে খুব তারাতারি আমার ভয় কেটে গেল। তারা আমার অনেক যত্ন নিল।
গ্রামটা ছিল জঙ্গলের অনেক ভিতরে। বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। শণপাতার ঘর আর খুবই সরল জীবনযাপন। তাদের ভাষা আমি কিছুই বুঝতাম না। কিন্তু তাদের ইশারা-ইঙ্গিত অনেকটাই বুঝতাম। কারণ আমি একজন ব্যবসায়ী, সারাজীবনে অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি।
এভাবেই দিনের পর দিন তাদের সাথে থাকতে লাগলাম। ১৫ দিন পার হয়ে গেল। আমিও তাদের সাথে মিশে গেলাম। আমি তাদের দেখালাম কিভাবে মাংস রান্না করতে হয়, কিভাবে আগুন জ্বালাতে হয়। সেই সাথে কয়েকটা ছোটখাটো টুলসও বানিয়ে দিলাম। এত দিনে আমিও তাদের ভাষা কিছুটা আয়ত্ত করে ফেলেছিলাম। তারাও আমাকে তাদের মতোই একজন ভাবতে লাগল।
- আমাজনের গহীন জঙ্গলের জামাই | এক অসাধারণ প্রেমের গল্প
- অলস ছেলে যখন ইউটিউবার | অনুপ্রেরণা মূলক গল্প
- শারীরিক সম্পর্ক নাকি হৃদয়ের সম্পর্ক | ভালবাসার গল্প
- রোবটের ভালোবাসা | সাই-ফাই বাংলা গল্প
- সৎ ভাইয়ের প্রেমে! অবৈধ ভালবাসার গল্প
এর মাঝেই আমার চোখ আটকে গেল লিয়ার দিকে। লিয়া ছিল তাদের এক আদিবাসী মেয়ে। লম্বা কালো চুল, স্বাস্থ্যবান শরীর, আর চোখে ছিল জঙ্গলের দুর্দান্ত স্বাধীনতা। সে আমার খেয়াল রাখত সবচেয়ে বেশি। হাসলে তার গালে টোল পড়ত। ধীরে ধীরে আমরা একে অপরের খুব কাছের হয়ে উঠলাম।
রাতে আগুনের পাশে বসে গল্প করা, একসাথে নদীর ধারে হাঁটা—এসবের মাঝেই আমাদের সম্পর্ক গভীর হতে লাগল। এক রাতে জঙ্গলের ঠান্ডা বাতাসে আমরা আগুনের পাশে বসেছিলাম। চারপাশে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আর আগুনের মৃদু আলো।
লিয়া ধীরে ধীরে আমার কাঁধে মাথা রাখল। আমি আলতো করে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। সে লজ্জা পেলেও সরে গেল না। আমি আরো এগুতে চাইলাম। চাইলাম তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে। কিন্ত তার চোখে ছিল ভয়, কৌতূহল আর অদ্ভুত এক অনুভূতি।
সে আমাকে বলল, তাদের সমাজে নারী-পুরুষের মিলন মানেই সন্তান আসা। তাই তারা এসব করতে খুব ভয় পায়। তখন আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম আধুনিক পৃথিবীতে এমন কিছু উপায় আছে, যার মাধ্যমে নিরাপদ থাকা যায়। প্রথমে সে কিছুই বুঝতে পারছিল না। পরে আমি তাকে কনডম দেখালাম এবং সহজভাবে বুঝিয়ে দিলাম এটা কীভাবে কাজ করে।
লিয়া অবাক হয়ে সব শুনছিল। তার কাছে বিষয়টা ছিল একেবারে নতুন। অনেকক্ষণ বোঝানোর পর সে বুজতে পারলো।
সেই রাতে আমরা আরো কাছাকাছি এলাম। আগুনের ম্লান আলোয় সে আমার হাত শক্ত করে ধরে ছিল। জঙ্গলের নীরবতার মাঝে আমাদের দুজনের হৃদস্পন্দন যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। আমাদের সম্পর্কের সেই মুহূর্তটা ছিল ভালোবাসা আর বিশ্বাসে ভরা।
পরদিন সকালে লিয়া অবাক হয়ে সবাইকে কনডমের কথা বলতে লাগল। গ্রামের সবাই খুব কৌতূহলী হয়ে গেল। তারা আমাকে ঘিরে ধরে জানতে চাইল এটা কীভাবে কাজ করে। তখন আমি সহজভাবে তাদের বিষয়টা বোঝালাম।
তারা বিস্মিত হয়ে গেল, কারণ এতদিন তারা ভাবতো সন্তান ছাড়া এমন সম্পর্ক সম্ভব না। আমি তাদের কিছু কনডম দিলাম এবং বুঝিয়ে দিলাম নিরাপদ থাকার গুরুত্ব। ধীরে ধীরে পুরো গ্রামের মানুষ বিষয়টা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠল।
সেই মুহূর্তে আমি বুঝতে পারলাম, আমি শুধু তাদের গ্রামে একজন অতিথি নই—আমি তাদের জীবনে নতুন এক জগতের দরজা খুলে দিয়েছি। এভাবেই দেখতে দেখতে প্রায় ৬মাস কেটে গেল। তখন আমি মনে মনে ভাবলাম এবার ফেরার পালা। তাই আমি ফিরে যেতে চাইতেই তারা আর আমাকে বাধা দিল না। তারা আমাকে শহরে পৌছে দিল। শহরে গিয়ে আমি অনেক জিনিস কিনলাম। ঔষধ, খাবার, আর অন্যান্য সামগ্রী। এরপর সেগুলো আমি তাদের গিফট করলাম। তারাও অনেক খুশি হলো।
কিন্ত তার মাঝে আমি যাকে খুজে পেয়েছি তাকে আর হাতছাড়া করলাম না। কারন আমি লিয়াকে ভালবাসি। আমি তাকে বিয়ে করে আমার সাথে নিয়ে আসলাম। লিয়া প্রথমে খুবই ভয় পাচ্ছিল। কারন সে আগে কখনো শহর দেখেনি। আমি তাকে আমার বুকে জরিয়ে ধরে আমার চেনা শহরে নিয়ে আসলাম। সে আমার কাছে এসে খুবই খুশি। আর লিয়া আসাতে আমার আগোছালো জীনটা শান্তিতে ভরে গেল। লিয়া ধীরে ধীরে আমার ভাষা শিখে নিল। নতুন পৃথিবীর সাথে মানিয়ে নিতেও শিখে গেল।
এরপর থেকে ছয় মাস অন্তর অন্তর আমি তাদের কাছে যেতাম। অনেক উপহার নিয়ে যেতাম। সেই সাথে তাদের জন্য ভালো কিছু ঘরও বানিয়ে দিলাম। পরে আমি তাদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ আর ইন্টারনেটের ব্যবস্থাও করে দেই। ফলে লিয়া প্রতিদিন তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতো।
এভাবেই চলতে থাকল আমাদের দুই জগতের জীবন—চেন্নাইয়ের ব্যবসায়ী আর আমাজনের জঙ্গলের সরল সমাজ।
(সমাপ্ত)