মেয়েটার সাথে আমি শারীরিক সম্পর্কো করেছিলাম বেশ কয়েকবার। শারীরিক সম্পর্ক নাকি হৃদয়ের সম্পর্ক! বেশ সহজ ভাবেই কথাটা বললাম আমি। আমি রাহুল। আর নিধি আমার হবু বউ। যার সাথে আমার পরিবারিক ভাবেই বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। ভালবাসার গল্প
শারীরিক সম্পর্ক নাকি হৃদয়ের সম্পর্ক
আমার কথা শুনে নিধি চুপ করে রইল। কিছুক্ষন এভাবেই নিরবতা চললো। তখন আমিই আবার বললাম নিধি চুপ করে আছো যে?
নিধি এবার আমার দিকে তাকাল আর বললো কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না। তবে একটু খারাপ লাগছে।
দ্যাখো আমি জানি আমি অনেক খারাপ কাজ করেছি। এটাও জানি আপনারও অনেক খারাপ লাগছে। আর খারাপ লাগাতাও খুবই স্বাভাবিক। আর আল্প কিছু দিন পরেই আমাদের বিয়ে। আর তার মাজেই শুনতেছো তোমার হবু বরের অন্য মেয়ের সাথে ফিজিকাল সম্পর্ক ছিল। হয়তো আমি চাইলেই ব্যাপারটা লুকাতে পারতাম। কিন্ত আমি চাইনা কাউকে ঠকাতে।
নিধি তাও চুপ করে আছে। হয়তো মনে মনে কিছু ভাবতে লাগলো।
-আসলেই তো রাহুলের কথা শুনে আমার মোটেও তেমন খারাপ লাগছে না। আবার খুব একটা ভালও লাগছে না। অন্য কোন সময় হলো হয়তো আমি রাহুলকে পুরাই ধুয়ে দিতাম। আমি কি এই অল্প কয়েকদিনের কথা বলাতেই রাহুলের প্রতি আসক্ত হয়ে গেছি। নাকি আমার অবেগ, অনুভুতি সব কিছু হারিয়ে ফেলছি। এখন আমার কি করা উচিত, বা কি বলা উচিত কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।
- আমাজনের গহীন জঙ্গলের জামাই | এক অসাধারণ প্রেমের গল্প
- অলস ছেলে যখন ইউটিউবার | অনুপ্রেরণা মূলক গল্প
- শারীরিক সম্পর্ক নাকি হৃদয়ের সম্পর্ক | ভালবাসার গল্প
- রোবটের ভালোবাসা | সাই-ফাই বাংলা গল্প
- সৎ ভাইয়ের প্রেমে! অবৈধ ভালবাসার গল্প
তখনই আমি বলে উঠলাম। অনেক ভালবাসতাম মেয়েটাকে। ওর নাম ছিল। আরপিতা। আমার তিন বছরের জুনিয়র। ফেসবুকের মাধ্যমেই আমাদের পরিচয় হয়েছিল। এরপর দেখা তার পর ভাললাগা। এবং একদিন তাকে সরাসরিই প্রপোজ করে ফেলি। তারপর আমাদের মাঝে কয়েকবার ফিজিকাল হয়। কিন্ত জানো তো ও নিজেই আমার কাছে বার বার শারীরিক সম্পর্কো করতে চাইতো। দুজনের ইচ্ছেতেই হয়েছিল সব কিছু।
আমার কথা শুনে অসস্তি হচ্ছিল নিধির কিন্ত তাও সে আমার কথা গুলো শুনতে লাগলো। এবং বাকি কাহিনীটা শোনার জন্য আধীর আগ্রহে বসে রইল।
আমি তখন বললাম। আমি তখন ছোট ছিলাম। আমি শুধু যেকোনো মূল্য আরপিতাকে চাইতাম। কিন্ত কে জানতো মেয়েটা অন্য কারো ভালবাসায় আসক্ত। আর বছর না যেতেই সে আমাকে ছেড়ে তার কাছে চলে গেল। শুনেছি ওই ছেলের সাথেও সে অনেক বার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। কিন্ত বিশ্বাস কর আমি এই রকম ভালবাসা চাইনি। চাইনি বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্ক করতে। কিন্ত হয়তো তার এটাই চাহিদা ছিল আমার কাছে। এসব বলতে বলতেই আমার চোখে জল চলে আসলো।
এবার নিধির মনে মেয়েটার প্রতি একটা বিরক্ত ভাব দেখতে পেলাম। আর মূহের্তই আমার প্রতি টার সমস্ত রাগ অভিমান সব ধুলোয় মিশে গেল। এবার সে আমাকে জরিয়ে ধরে প্রসঙ্গটা পাল্টে বলল। বোকা ছেলে শারীরিক সম্পর্কোই সব না বুঝলে। তুমি আমার কাছে সত্যি কথা বলেছো আমি তাতে খুব খুশি হয়েছি। যে আমার হবু বর আমার কাছে কোন কিছু লুকায় না। চলো আমরা আইসক্রিম খাই। তখনই আমি নিধির জন্য আর আমার জন্য একটা আইসক্রিম নিয়ে আসলাম।
আর হাটতে হাটতে আমরা যে যার বাসায় চলে গেলাম।
কিন্ত বাসায় যাওয়ার পর থেকে নিধির সাথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। কারন নিধিকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। একবার না দুবার না প্রায় শত শত বার কল করেছি। কিন্ত নিধির নম্বার সুইস আফ দেখায়। আমার টেনশন বাড়তে লাগলো। মনে মনে ভাবছিলাম নিধি কি তাহলে আমাকে বিয়ে করতে চায় না।
এই দিকে বিয়ের তারিখ যত এগিয়ে আসছিল ততই আমার টেনশন বাড়তে লাগলো। কারন এক দিকে কেনা কাটা, আত্মীয় স্বাজন সবাইকে আমি কি জবাব দিবো। বিয়ের ঠিক এক সপ্তাহ আগে নিধির কল।
রাহুল সেদিন তোমার সেই কথা গুলো শুনে আমি পুরো ভেঙে পরেছিলাম। তাই ইচ্ছা করেই আমার ফোন বন্ধ করে রেখেছি। কিন্ত আমি একটা সিদ্ধন্ত নিয়েছি। যে..
এই একটা কথা শুনতেই আমার মনে ভিতরে ধুকপাকনি বাড়তে লাগলো। মনে হলো হাই পাওয়ারের কোন ঝড় আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তখনই নিধি বলল আমার ডিসিশন হলো আমি তোমাকে বিয়ে করবো। নিধির এই একটা কথাতে যেন আমার প্রান ফিরে পেলাম। এরপর থেকে নিধির সাথে আমার কথা বাড়তে লাগলো। আর আমাদের পরিবারিক ভাবে বিয়ের সমস্ত আয়োজন পুরাদমে চলতে লাগলো।
এর মাঝেই একদিন সন্ধায় আমি আর নিধি খোলা ছাদে বসে আছি। আকাশে হাজারো তারা। নিধি হঠ্যৎ বলে উঠলো রাহুল এখন কি তোমার সেই আরপিতার কথা মনে পরে।
আমি নিধির কথা শুনেই একটু চমকে উঠলাম। তারপর বললাম পড়ে কিন্ত তার ছেড়ে যাওয়ার কথা। এত্ত ভালবাসার পরেও কিভাবে একটা মেয়ে একটা ছেলেকে ছেড়ে চলে যায়।
নিধি তখন আমার হাতটা ধরলো। তারপর বলল শারীরিক সম্পর্ক তো অনেকের সাথেই হয়। কিন্ত যে মানুষটা নিজের ভুল স্বিকার করে। সে কখনো খারাপ হতে পারে না। তুমি চাইলেই আমার কাছে এটা এড়িয়ে যেতে পাড়তে কিন্ত তুমি এড়াওনি। তুমি আমাকে ঠকাওনি এটাই আমার কাছে সব থেকে বড় পাওয়া।
আমি তখন নিধিকে জরিয়ে ধরলাম। তারপর তাকে আমার খুব কাছে এনে বললাম ভেবেছিলাম হয়তো তুমি এই বিয়েটা ভেঙে দিবে। কিন্ত এখন বুজলাম আমি ভুল কিছু করেনি। আমি আমার লাইফে সঠিক মানুষটিই খুজে পেয়েছি।
নিধি হেসে বলল শারীরিক সম্পর্কো তো হয় শরীরের সাথে। কিন্ত হৃদয়ের সম্পর্কটা আত্মার সাথে। আর আমার আর তোমার সম্পর্ক টা এখন আত্মার সাথে মিশে গেছে। আরপিতা হয়তো তোমার শরীর চেয়েছিল। কিন্ত আমি শুধু তোমার শরীর চাইনা। আমি তোমার মন, তোমার সততা, তোমার দুর্বলতা, তোমার হাসি, কান্না সব কিছ চাই। আমি শুধু তোমাকে চাই।
সেই রাতে আমাদের সম্পর্কোটা অনেক গভীরে পৌছে গেল। এর ১দিন পরে অনেক ধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হলো। নিধি এখন আমার ঘরে বউ সেজে বসে আসে। আজ আমাদের বাসর রাত। নিধির কাছে যেতেই নিধি বলল এই পবিত্র ফুলসজ্জার দিনে আমরা শুধু কথা বলবো। শারীরিক সম্পর্কো আগামীকাল থেকে হবে। আজ আমাদের মনের সাথে মনে মিলন হবে। এরপর আমি নিধিকে জরিয়ে ধরলাম। তারপর নিধের কোলে আমার মাথা দিয়ে রাত ৩টা আবদি আমরা আড্ডা দিতে লাগলাম। নিধি দেখল আমি তার সাথে জোর করছি না। আর নিধি মনে মনে এটাই চেয়েছিল। তারপর নিধি আমাকে বুঝতে পারলো যে আসলেই আমি তার জন্য পারফেক্ট। এরপর সে আমাকে জরিয়ে ধরে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জরিয়ে গেল।
— দেড় বছর পর।
একদিন রাতে আমাদের ছোট্ট বাচ্চা মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে। বারান্দায় আমি বসে আছি। তখনই নিধি আমার কাছে এসে আমার কাধে মাথা রেখে বলল।
মনে আছে রাহুল যেদিন তুমি আমার কাছে সব কিছু খুলে বলেছিলে? সেদিন যদি আমি রাগ করে চলে যেতাম। তাহলে আজ আমাদের এই সুন্দর সংসার জীবনটা পেতাম না। আমি তখন নিধির চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম আমার পাগলিটা। আমি তোমাকে ভিষন ভালবাসি। আর বললাম শরীরের সম্পর্কো আসে যায় কিন্ত হৃদয়ের সম্পর্কটা চিরকাল থাকে।
শেষ।