আমার সৎ ভাইয়ের ৫বছর বয়সের সময় তার মা কান্সারে মারা যায়। আর মা মারা যাবার সতেরো দিনের মাথায় আমার বাবা আবার বিয়ে করেন। বিয়ে টা তিনি ভাইয়ের জন্যই করে ছিলেন। তাছাড়া সারাদিন অফিস করে এই টুকু বাচ্চা পালা, রান্না বাড়া তে আর একটু খানি কথা না।
তাছাড়া যতই হোক পুরুষ মানুষের শারীরিক চাহিদা তো আছেই। আর পরেই যাকে বিয়ে করেন তার পেটেই আমার জন্ম। প্রথম প্রথম আমার মা আমার ভাইকে মানে তার সৎ ছেলেকে অনেক যত্ন নিতেন। কিন্ত আমি হওয়ার পর সেই যত্নে অনেকটা ভাটা পরে। এভাবেই দেখতে দেখতে আমারা দুজনেই বড় হতে লাগলাম। আমার সৎ ভাই রাতুল সে ছিল যেমন মেধাবী তেমনি হান্ডসাম। ছোট থেকেই দেখতাম এলাকার সব মেয়েদের নজর আমার ভাইয়ের দিকে। কিন্ত কেন জানিনা এটা আস্ত আস্তে আমার খারাপ লাগতে শুরু করলো।
সৎ ভাইয়ের প্রেমে! অবৈধ ভালবাসার গল্প
আমার একটু একটু হিংসা হতো। যদিও রাতুলকে আমি সব সময় বড় ভাইয়ের তোখেই দেখতাম। তাও কোন মেয়ের সাথে কথা বললে, বা কোন মেয়ে ভাইকে লাইন মারলে আমি সহ্য করতে পারতাম না। জানি না আমার এমন কেন লাগতো? আমি কি আমার আপন সৎ ভাইকে ভালবেসে ফেলেছি। উফ ভাবতেই কেমন জানি লাগতো।
আবার এনেক সময় এত্ততাই হিংসে হত সোজা বাড়িতে এসে মায়ের কাছে নালিশ করতাম। ার মা যখন ওকে বোকা দিত তথন মনের ভিতরে একটু হলেও শান্তি পেতাম। এভাবেই দেখতে দেখতে আমরা দুজনেই বড় হয়ে গেলাম। ছোট থেকেই ভাইয়া মেধাবী হওয়াতে তার সব বিষয়েই দক্ষতা ছিল। আর সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে ভাইয়া এখন একজন বড় মাপের ইউটিউবার। সাথে ভাইয়ার একটা রেস্টুরেন্টে ব্যবসাও আছে তাও আমাদের বাড়ির সাথেই।
ভাইয়ার এত্ত উন্নতি দেখে আমি তো তার উপর পুরো ফিদা হয়ে আছি। আর এখন আমি সত্যি ভাইয়া মানে রাতুলকে ভালবেসে ফেলেছি। কিন্ত জানি এটী ঠিক না। কারন সে আমার সৎ ভাই। আমরী একই বাপের সন্তান যদিও আমাদের মা আলাদা। জানি সমাজ আমাদের সম্পর্ক মেনে নিবে না।
কিন্ত আমার মন যে মানে না। হয়তো ভাবছেন আমি দেখতে খারাপ। মোটেও না। আমার সৎ ভাইয়ের সাথে আমাকে একদম পারফেক্ট মানাবে। ৫.৩ হাইট আমার, ফর্সা এবং কিউট একটা ফেস। যোকোনে ছেলেই প্রথম দেখাতে প্রেমে পরে যাবে। হয়তো আমি ভাইয়ার সৎ বোন না হলে এত্ত দিনে ভাইয়াই আমাকে প্রপোজ করে বসতো।
কিন্ত আমিও তো বড় হয়ে গেছি বাড়িতে একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব এসছে। যদিও সব গুলোই আমি রিজেক্ট করে দিছি। কিন্ত এভাবে আর কত? তাই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম যে করেই হোক আগামী এক মাসের মধ্যেই ভাইয়াকে পটাতে হবে। এই দিকে পাশের এলাকার এক সুন্দরী পেত্নীর সাথে ভাইয়ের সম্পর্ক বন্ধত্ব পূর্ণ হয়ে উঠে। আর তার পর থেকে আমার মাথা যেন কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আমি মাকে বলি আজ থেকে আমিও ভাইয়াকে তার সব কাজে হেল্প করবো তুমি তাকে বলে দাও। মা প্রথমে রাজি হতে চায় না। কারন মা মোটেও সৎ ছেলেকে পছন্দ করে না। কিন্ত আমার চাপে মা রাজি হয়। আর ভাইয়াকে কড়া ভাষায় বলে দেয় যে এখন থেকে রিদ্ধীও তোর সাথে থাকবে। আর তোর সব কাজে হেল্প করবে। ভাইয়া প্ররমে একটু না বলতে চাইলেও পারে না
এরপর থেকে শুরু হয় আমার আসল খেলা। রাতুল যেখানেই যেত আমিও সেখানে যেতাম। বডি গ্রার্ডের মত ওর সাথে লেগে থাকতাম। ভিষন ভাল লাগতো সব সময় ওর সাথে থাকতে। কখনো কখনো ভাইয়ার সাথে ইউটিউব ভিডিওতে এক সাথে আসতাম। আর অনেক গুলো ফেইক আইডি খুলে ভিডিওতে কমেন্ট করতাম আপনাদের দুজনে অনেক ভাল মানাইছে। উঃ ভাইয়া আপনার গার্লফ্রেন্ড টা অনেক কিউট। আরো কত কি?
- রোবটের ভালোবাসা | সাই-ফাই বাংলা গল্প
- সৎ ভাইয়ের প্রেমে! অবৈধ ভালবাসার গল্প
- বন্ধ জানালা | বাংলা ভুতের গল্প
কিছু দিন ভিডিও ছাড়ার পর আন্যরাও একই কমেন্ট করতে থাকে। আর দ্রুত ই সেই কমেন্ট গুলো ভাইরাল হয়ে যায়। সমাজিক মাধ্যমে আমাদের দুজনের ছবি এক করে আলোচনা চলতে থাকে। আর আমিও সুযোগের সৎ ব্যবহার করি। সব দোষ চাপিয়ে দেই ভাইয়ার উপর। ভাইয়া তো কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। বোকার মত বলদ বনে যায়। তার উপর পাশের এলাকার সেই সুন্দরীও ভুল বুঝে ভাইকে গালাগালি করে ভাইয়াকে ছেড়ে দেয়।
এই দিকে পারা প্রতিবেশির মাধ্যমে মায়ের কানে কথা গুলো আমিই পৌঁছে দেই। তারপর যা করার মা ই করে বারিতে পারিবারিক ভাবে বিচার বসে। বিচার বসতেই আমি আমার পুরো অভিনয় দক্ষতার কাজে লাগাই।
আমি দু চোখের জল এক করে। কান্না করতে করতে বলি ” আমাকে এখন কে বিয়ে করবে? সবাই তো জানে রাতুলই আমার বর। আমি রাতুলের গার্লফ্রেন্ড। মা আমার এখন কি হবে।
রাতুল কিছুই বলতে পারে না। তখনই মা বলে কান্না ককিস না মা। এই ছেলেকে আমি পুলিশে দিবো। ও আমার মেয়ের এত্ত বড় সর্বনাশ কি করে করতে পারলো?
তখনই আমি আরো জোরে চিৎকার করে বলি। পুলিশে দিলে কি আমার এই দাগ মুছে যাবে তার থেকে একটাই উপায় আমি রাতুলকে বিয়ে করবে তথনই সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে। মা বাবা এক সাথে বলে ওঠে “তুই এটা কি বলছিস রিদ্ধী রাতুল তোর ভাই।”
আমি তথন বলি তে তোমরী কি তাও আমি মরে যাই। ঠিক আছে আমি এখনই মরে যাব। এই বলে গায়ের অর্নাটী খুলেই ফানের সাথে ঝুলাতে যাই। আর বলি করলে ওরেই বিয়ে করবো নাহলে এখনই গলায় দরি নিবো। আমার এই কথা তে মা বাবা দুজনেই রাজি হয়ে যায়।
আর রাতুলও মা বাবা উপরে না করতে পারে না। তারপর সেদিনই একটা পুরোহিত ডেকে আমাদের বিয়ে দেয়া হয়।
আমি তো মনে মনে খুবই খুশি। অবশেষে আমি আমার প্রিয় ভাই টাকে নিজের করে নিতে পারলাম। আর ভাইয়া ও এখনো ঘোরের মধ্যে আছে কোথা থেকে কি হয়ে গেল বুঝতেই পারছে না। বাসর ঘরে আমি যখন বউ সেজে বসে আছি । রাতুল তখন রুমে প্রবেশ করে। আর বলে সব দোষ আমার। আমার জন্য তোর আজ এত্ত বড় সর্বনাশ হয়ে গেল। রাতুলকে কথা শুনে আমি আর না হেসে পারলাম না
বোকা হাদারাম কোথাকার। আয় আমাকে আদর কর। রাতুল কাছে না আসলেও আমি জোর করে রাতুলকে জরিয়ে ধরে ফুলসজ্জায় যা যা হয় করে নিলাম। ওটা না শুনলেও চলবে বুঝে নেন সবাই ওকে। এই ছিল সৎ ভাইয়াকে ভালবাসার পরিনাম।
সমাপ্ত….।। গল্পটা ভাল লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।।…